ক্যাম্ফারের ‘যন্ত্রণা’ পেরিয়ে স্বস্তির হাসি বাংলাদেশের
মিরপুর, ২৩ নভেম্বর ২০২৫: আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের সামনে জয়ের রাস্তা একসময় খুবই সোজা মনে হলেও, সেই পথটাকে কঠিন করে তুলেছিলেন একাই কার্টিস ক্যাম্ফার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে তারা ধরে রাখতে পারেনি প্রতিরোধ। হাসান মুরাদের বলে ম্যাথু হামফ্রিস বোল্ড হতেই শুরু হয় টাইগারদের জয়ের উৎসব। ম্যাচ জিতে সিরিজও ২–০ তে নিজেদের করেছে বাংলাদেশ।
তবে ম্যাচের শেষ ঘণ্টা পর্যন্ত বাংলাদেশের মনে দুশ্চিন্তা জাগিয়েছিলেন ক্যাম্ফার। ১৬৬ বলের তেজী লড়াই, লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে দৃঢ় প্রতিরোধ, চাপের মুখে অটল মনোযোগ—সব মিলিয়ে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অপরাজিত ৭১ রানে থেমে যায় তাঁর ইনিংস, কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদের মনে বাড়তি চাপ তৈরি করে তিনি প্রাপ্য সম্মান কুড়িয়ে নেন।
শেষদিনের লড়াই: এক প্রান্তে ক্যাম্ফার, অন্য প্রান্তে পতনের মিছিল
৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে পঞ্চম দিনে ব্যাটিং শুরু করে আয়ারল্যান্ড। সঙ্গী অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকে দ্রুত হারালেও (এলবিডব্লিউ, তাইজুল), ক্যাম্ফার নিজের প্রান্ত ধরে রাখেন লড়াইয়ের দৃঢ়তায়। এরপর জর্ডান নিলকে নিয়ে আবারো গড়ে তোলেন আরেকটি ক্ষুদ্র প্রতিরোধ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। নিলকে (৩০) ফিরিয়ে সফরকারীদের আরও চাপে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম সেশন দীর্ঘায়িত করেও যখন কোনো উইকেট পড়ছিল না, তখন টাইগার শিবিরে ড্রয়ের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল। কিন্তু পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনে এসে ম্যাচের গতিপথ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ক্যাম্ফার–হোয়ে জুটি ১৯০ বল টিকলেও, হাসান মুরাদের এলবিডব্লু ফাঁদে পড়ে ৩৪ রানে বিদায় নেন হোয়ে। এরপর প্রথম বলেই বোল্ড হন হামফ্রিস। ইনিংস শেষে আয়ারল্যান্ড অলআউট ২৯১।
ক্যাম্ফারের রেকর্ড, বাংলাদেশের হাসি
২৫৯ বল মোকাবিলার রেকর্ড গড়া ক্যাম্ফারের ইনিংস আয়ারল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসেও নজির। লোয়ার অর্ডারের সঙ্গে ব্যাট করে তিনি যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা মিরপুরে চতুর্থ ইনিংসে বিরল। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস তাঁর এই লড়াইয়ের প্রশংসা করে ম্যাচশেষে এগিয়ে গিয়ে অভিনন্দন জানান।
তাইজুল–মুরাদের জোড়া জাদু
বাংলাদেশের জয়ে স্পিনারদের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- তাইজুল ইসলাম: ৪/১০৪—আরো একবার দেখালেন কেন তিনি দেশের সেরা টেস্ট স্পিনার। এই ম্যাচেই ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
- হাসান মুরাদ: ৪/৪৪—শেষদিনে দুই দিক থেকেই আঘাত হেনে ম্যাচ শেষ করে দেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল (৮৭), সাদমান (৭৮), মাহমুদুল (৬০) এবং মুশফিকের (৫৩*) ব্যাটিং দলকে শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাতে যথেষ্ট ছিল।
সিরিজ ২–০, ম্যাচসেরা–সিরিজসেরা ঘোষণা
- ম্যাচসেরা: মুশফিকুর রহিম
- সিরিজসেরা: তাইজুল ইসলাম
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৭৬ ও ২৯৭/৪ ডিক্লেয়ার
আয়ারল্যান্ড: ২৬৫ ও ২৯১
ফল: বাংলাদেশ ২১৭ রানে জয়ী
সিরিজ: বাংলাদেশ ২–০ তে জয়ী
