গুমের দুই মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি ৩ ও ৭ ডিসেম্বর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের গুম মামলার শুনানিতে হাজির ১৩ সেনা কর্মকর্তা ও ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের দুই মামলার শুনানি নির্ধারিত হলো ৩ ও ৭ ডিসেম্বর।

অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকা, ২৩ নভেম্বর ২০২৫: আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আগামী ৩ ও ৭ ডিসেম্বর এই দুই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে এ শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে গ্রেফতার হওয়া ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

পলাতক আসামি শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ

এই দুটি মামলায় পলাতক আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র-নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে। এছাড়া অন্যান্য পলাতক আসামিদের জন্যও রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

আজ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শুনানি পরিচালনা করেন। শুনানিতে অপর প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

১৩ সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির ও কড়া নিরাপত্তা

সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সাময়িক কারাগার থেকে বিশেষ প্রিজন ভ্যানে করে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে আদালতে আনা হয়। তাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সেনা, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়।

গত ২২ অক্টোবর তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্য

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তিন সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়—

  • বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার,
  • বিচারক মো. শফিউল আলম মাহমুদ,
  • বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী

অভিযুক্ত ১৩ সেনা কর্মকর্তা

যাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা হলেন—
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ; কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান; লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন, সারওয়ার বিন কাশেম; ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

আরেক মামলায় দুই কর্মকর্তার আদালতে হাজিরের দিনকাল

এদিকে রামপুরায় জুলাই-আগস্টে ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামমেজর রাফাত বিন আলম মুনকে আগামীকাল ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া আছে।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ও সেনাবাহিনীর বক্তব্য

গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল এ দুই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে, যাদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তা। পরে ১১ অক্টোবর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ১৫ জন কর্মরত সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা সেনানিবাসে সাময়িক কারাগার

১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ঢাকা সেনানিবাসের **‘এমইএস বিল্ডিং নং–৫৪’**কে সাময়িক কারাগার ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *